শেষ হলো ১৮তম ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম সেমিনার
তিন দিনে ৮টি অধিবেশনে, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার থেকে প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হলো ১৮তম ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের তৃতীয় বাংলাদেশ বার্ষিক অধিবেশন। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে এতে সহযোগিতা করে ইউএনআইজিএফ, দি এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইন্টারনেট সোসাইটি ফাউন্ডেশন ও গুগল।
সমাপনী দিনে অর্থবহ এবং টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেমিনারে বিএনএনআরসি এবং বিআইজিএফ রিসার্চ ফেলো হীরেন পণ্ডিতের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ফোরামের (বিডিএসএএফ) সভাপতি মোঃ জোবায়ের আল-মাহমুদ হোসেন। উপস্থাপনায় তিনি ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ঘটে যাওয়া খাজা টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড এবং আমাদের ইন্টারনেটের ঝুঁকির বিষয়ে আলোচনা করেন এবং শক্তিশালী বিকল্প সার্ভারের বিশেষ করে এক জায়গায় সবকিছু স্থাপন না করার মাধ্যমে কিভাবে অর্থবহ ও টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু রাখা যায় এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের (বিআইজিএফ) মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল হক আনু, প্লেক্সাস ক্লাউড প্রধান নির্বাহী মোবারক হুসাইন মূল আলোচনার ওপর আলোচনা করেন।
এছাড়াও সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি’র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম খান বলেন, এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে টেকসই করতে আমাদের সবার চেষ্টা করতে হবে। সবাই মিলেই ডিজিটাল আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। আমাদের মোবাইল অপারেটরসহ সবাইকে নিয়ে একটি অর্থবহ ও টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
দিনের অপর অধিবেশনে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় তিন দিনের আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারি তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম (বিআইজিএফ) মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল হক আনু।
সম্মানিত অতিথি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন আনিয়া গেঙ্গো, এনআরআই ফোকাল পয়েন্ট এবং সহযোগী প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের (আইজিএফ) জাতিসংঘ সচিবালয়।
তিনি জাপান কিয়োটো আইজিএফ এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ইউএনআইজএফ ২০২৪ ও সামিট অব দি ফিউচার নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আইজিএফ কমিউনিটিগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভারতের দিল্লী থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সমীরণ গুপ্ত, সরকার ও আইজিও এনগেজমেন্ট এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দক্ষিণ এশিয়ার জন্য স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট, ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইকান) তিনি জানান বিআইজএফ সাথে আইকান কাজ করছে। ভবিষ্যতে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেষ অধিবেশনে বাংলাদেশস্থ কিংডম সৌদি আরবের দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন, হেলাল হাকিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসি’র সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল-উর-রহমান। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বিআইজএফ এর সাথে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স নিয়ে কাজ চলছে ভবিষ্যতে আরো কিভাবে ইন্টারনেটকে কার্যকর ও টেকসইভাবে ভাবে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং স্মার্ট বাংলাদেশের য অগ্রযাত্রাকে বেগবান করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। কোভিড আমাদেও অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। আমরা পুরোনো পৃথিবীতে ফিওে যেতে পারবোনা। জেনারেশন গ্যাপ ও ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে তিনদিনের ১৮তম বিঅইজিএফ-এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।







